নিজস্ব প্রতিবেদন:
সিলেটে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এখন ভয়ানক। মৃত্যুর ঘোড়া ছুটছে লাগামহীন। সংক্রমণও ঊর্ধ্বমুখী। কিন্তু চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই সিলেটে। রয়েছে অক্সিজেন সংকটও। এই পরিস্থিতিতে জরুরি সভা ডেকেছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১২টায় নগরভবনের সম্মেলন কক্ষে এই সভা শুরু হয়।
মেয়র আরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন সিলেট-১ আসনের সাংসদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।
সভা শেষে বেলা ২টার দিকে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, আজকের সভায় সিলেটের সার্বিক করোনা পরিস্থিতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। সিলেটের ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে সভায় উপস্থিত সবার সম্মতিক্রমে কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহের বিষয়ে। সিলেটে যেসব কোম্পানি অক্সিজেন সরবরাহ করে তাদেরকে সাপ্লাইয়ের পরিমাণ বাড়াতে বলা হয়েছে। এ নিয়ে আজ ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে অক্সিজেন কোম্পানিগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এছাড়াও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ে বৈঠক করে সিলেট এম এ জি ওসমনাী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অক্সিজেন সঞ্চালন প্লান্টের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
মেয়র বলেন, সভায় জেলা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে- যাতে জনসাধারণের মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়। এ ক্ষেত্রে যতটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন ততটা কঠোর হতে হবে প্রশাসনকে। এছাড়া সিসিকের সকল জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে নগরীর প্রতি ওয়ার্ডে মানুষকে মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে প্রচারণা চালানো হবে। আগামীকাল (বুধবার) থেকেই এ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
মেয়র আরিফ বলেন, সিলেট জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। রোগীরা যদি উপজেলা পর্যায়ে সেবা পেয়ে যান তবে ওসমানী মেডিকেল ও শামসুদ্দিন হাসপাতালসহ নগরীর হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অনেকটা কমে যাবে।
নগরীর প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীদের সেবা দিয়ে মানাবিক আকারে বিল আদায়ের জন্য সভায় কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

বার্তা বিভাগ প্রধান